উমরাহ ও হজের জন্য নির্ধারিত মীকাতসমূহ

Blog Details
উমরাহ ও হজের জন্য নির্ধারিত মীকাতসমূহ

 মীকাত শব্দের অর্থ হলো নির্দিষ্ট স্থান বা সীমারেখা। ইসলামে হজ ও উমরাহ পালনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখান থেকে ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক। যে কেউ মক্কায় প্রবেশ করে হজ বা উমরাহ করতে চাইলে তাকে এই মীকাত অতিক্রম করার আগে ইহরাম ধারণ করতে হবে।

রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজীদের জন্য পাঁচটি মীকাত নির্ধারণ করেছেন, যা নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।


১. যুল-হুলায়ফা (আবিয়ার আলী) – মদীনাবাসীদের জন্য

  • অবস্থান: মদীনা শরিফ থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে এবং মক্কা থেকে সর্বাধিক দূরত্বে অবস্থিত মীকাত।
  • যাদের জন্য: মদীনা থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।
  • বিশেষত্ব: এটি রাসূলুল্লাহ নির্ধারিত প্রথম মীকাত। বর্তমানে এর নাম "আবিয়ার আলী"।

২. আল-জুহফাহ – সিরিয়া, মিসর ও উত্তর আফ্রিকার লোকদের জন্য

  • অবস্থান: মক্কা থেকে ১৮৬ কিলোমিটার দূরে।
  • যাদের জন্য: শাম (সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ফিলিস্তিন), মিসর ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা হাজীদের জন্য নির্ধারিত।
  • বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে হাজীরা মীকাতের মূল স্থানে না গিয়ে রাবিগ নামে একটি স্থানে ইহরাম বাঁধেন, যা আল-জুহফাহ মীকাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. ইয়ালামলাম – ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের হাজীদের জন্য

  • অবস্থান: মক্কা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে।
  • যাদের জন্য: যারা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে সমুদ্রপথে বা দক্ষিণ দিক থেকে আসেন।
  • বিশেষত্ব: অতীতে যারা সমুদ্রপথে আসতেন, তারা সাধারণত এই মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধতেন।

৪. কারনুল মানাযিল (সাইল আল-কাবির) – নাজদ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য

  • অবস্থান: মক্কা থেকে ৯৪ কিলোমিটার দূরে।
  • যাদের জন্য: যারা নাজদ (সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চল), কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং ইরাক থেকে আসেন।
  • বিশেষত্ব: এটি বর্তমান সময়ের বিমানযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশ থেকে যারা বিমানে মক্কা যান, তাদের মীকাত এটি।

৫. যাতু ইরক – ইরাক, ইরান ও পূর্ব দিক থেকে আসা হাজীদের জন্য

  • অবস্থান: মক্কা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে।
  • যাদের জন্য: যারা ইরাক, ইরান ও পূর্ব দিক থেকে আসেন।
  • বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে এই মীকাতের ব্যবহার তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশ থেকে উমরাহ করতে গেলে কোন মীকাত প্রযোজ্য?

বাংলাদেশ থেকে যারা বিমানে উমরাহ করতে যান, তাদের জন্য সাধারণত "কারনুল মানাযিল" মীকাত নির্ধারিত।

 

বিমানে যাত্রা করলে:

  • বিমানের ভেতর থেকেই মীকাতের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে ইহরামের নিয়ত করতে হয়।
  • পাইলট সাধারণত ঘোষণা দেন, তখনই ইহরাম বাঁধতে হয়।

🚢 সমুদ্রপথে গেলে:

  • অতীতে বাংলাদেশ থেকে যারা সমুদ্রপথে যেতেন, তাদের জন্য "ইয়ালামলাম" মীকাত প্রযোজ্য ছিল।

মীকাতের ভেতরে বসবাসকারীদের জন্য ইহরাম বাঁধার নিয়ম

যারা মক্কার আশেপাশে (হারামের বাইরে) বসবাস করেন, তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারেন। তবে যারা মক্কার ভেতরে বসবাস করেন এবং উমরাহ করতে চান, তাদের হারামের বাইরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে হবে। সাধারণত তারা "তানঈম (মসজিদে আয়েশা)" থেকে ইহরাম বাঁধেন।


 

মীকাত হলো ইসলামী শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা মেনে চলা আবশ্যক। কেউ যদি ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করেন, তবে তাকে একটি "দম" (একটি পশু কোরবানি) দিতে হবে। তাই উমরাহ বা হজ করতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মীকাত সম্পর্কে ভালোভাবে জানা উচিত।

বিমানে ভ্রমণের সময় যাতে মীকাত পার হয়ে না যায়, সেজন্য বাংলাদেশ থেকে রওনা হওয়ার আগেই ইহরামের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে উমরাহ ও হজ পালনের তাওফিক দান করুন—আমিন! 🤲

 


Share
Comments
কমেন্ট করতে লগইন করুন। লগইন | রেজিস্ট্রেশন

No Data Found